সহবাস বিষয়ে জ্ঞান থাকা ও নীতিমালা অনুসরণ করা

ইলম অর্জন ও নীতিমালা অনুসরণ করে সহবাস করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। যেমন-
১) মধ্যমপন্থায় সহবাস করলে মনে শক্তি আসে।
২) আত্মা আনন্দিত হয়।
৩) পুরুষাঙ্গ পুনরায় কাজ শুরু করার পূর্বেই প্রয়ােজনীয় খাবার বা প্রস্তুতি গ্রহণের সুযােগ পায় ।
৪) অপবিত্রতা থেকে শরীর পবিত্র হয়।
৫) স্বামী স্ত্রীর প্রতি রাগ-গােস্সা কম করে।
৬) ক্রমান্বয়ে স্বামীর জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
৭) সহবাসের স্বাদ উপভােগ করার দ্বারা আত্মা শান্তি পায়।

সহবাসের নীতিমালা:
আল্লাহ তাআলা বলেন- মহিলারা তােমাদের পােশাক স্বরূপ এবং তােমরাও তাদের পরিধেয় স্বরূপ। স্বামী-স্ত্রী উভয়কে বুঝতে হবে যে, অধিক মাত্রায় খাবার খেলে যেমন পেট খারাপ হয়, অধিক মাত্রায় সহবাস করলেও শরীর দুর্বল ও সুস্থতায় বিঘ্ন ঘটে। অধিক সহবাসে পুরুষদের যে ক্ষতি হয়, মহিলাদেরও তেমন ক্ষতি হয়।

সহবাসের ইচ্ছা করলে এই দুআ পড়তে হবে-

أَللّٰمَّ جَنِّبْنَاالشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَيْطَانَ مَارَزَقْتَنَا

অর্থ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান হতে রক্ষা করুন এবং আমাদের জন্য নির্ধারিত বস্তু হতে শয়তানকে ফিরিয়ে রাখুন।

উপরােক্ত দুআ সহবাসের সময় পড়লে আল্লাহ তাআলা বিতারিত শয়তান থেকে তাদেরকে হেফাজত করেন। সহবাসের সময় ঐ দুআ না পড়লে, তাদের কাজে শয়তানও শরীক হয়।

সহবাসের সময় পশ্চিমমুখি না হওয়া। কেননা কেবলা ও কাবা শরীফের সম্মান সকল মুসলমানের অন্তরে থাকা আবশ্যক।

সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের উপর বড় আকারের কাপড় টেনে দিবে। একেবারে উলঙ্গ অবস্থায় সহবাস করা যদিও জায়েয, তবে তাতে সন্তান জন্ম নিলে অধিকাংশ সময় ঐ সন্তান নির্লজ্জ ও বেহায়া হয়ে থাকে। সহবাসের সময়ে অধিক কথা না বলা। কেননা এতে সন্তান বোবা বা তােতলা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সহবাসের সময় কুরআন কারীমকে ঢেকে রাখা। যেন তার সম্মানে কোনাে কমতি না আসে।

স্বপ্নদোষে অপবিত্র অবস্থায়, সূর্য উদয় ও অস্তের সময় স্ত্রী সহবাস না করা। কেননা এসব অবস্থায় বা সময়ে সহবাসের দ্বারা যেসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তারা অধিকাংশই পাগল বা উন্মাদ হয়ে থাকে।

দীর্ঘদিন সহবাস না করলে অনেক সময় মহিলারা বিভিন্ন অসুস্থতায় ভােগেন। এজন্য এ বাক্যটি খুব স্মরণীয়-
الجماع للنساء كالمرهم للجرح
অর্থ- মহিলাদের জন্য সহবাস এমন, ক্ষতস্থানের জন্য মলম যেমন।

সহবাসের পর পেশাব করা খুবই জরুরি। মাটি বা হালকা গরম পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতে হবে। একবার সহবাস করার পর দ্বিতীয়বার সহবাস করতে চাইলে অযু করা। এতে মনে এক প্রকার তৃপ্তি পাওয়া যায়।

স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখা মাকরূহ। লজ্জাস্থান দেখে সহবাসকারীর সন্তান অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় সহবাস করা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় দিক দিয়েই ক্ষতিকর। এ সময় সহবাস করলে শরীরে বিভিন্ন রােগ-ব্যাধি দেখা দেয়। আবার তা হারামও।

সহবাসের পূর্ব মুহূর্তে আতর-খুশবু ব্যবহার করা জায়েয। খুশবু ব্যবহারে সহবাসে অধিক মজা ও আনন্দ পাওয়া যায়।

যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয। এর জন্য হালুয়া খাওয়া জায়েয আছে। উদ্দেশ্য হল কেবল স্ত্রীর হক আদায়ে যেন কোনো প্রকার কমতি না আসে। গুপ্তস্থানের পশম বেশি বেশি পরিস্কার রাখা। গুপ্তস্থানের পশম উপড়ান উত্তম। সম্ভব না হলে কোনােভাবে পরিস্কার রাখা।

মাসের প্রথম রাত, আমাবশ্যার রাত ও মাসের শেষ রাতে সহবাস না করাই উত্তম। কেননা এ তিন রাতে শয়তানের বিস্তার বেশি হয়ে থাকে। ঈদের রাতে, ফলদার বৃক্ষের নীচে এবং দাড়িয়ে সহবাস করলে আগত সন্তান অধিকাংশ নির্ভীক, বদ ও দাঙ্গাবাজ হয়ে থাকে।

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের রাতে, রাতের অন্ধকার নেমে আসার সময়, রাতের প্রথমাংশ যখন খাবারে পেট ভরপুর থাকে, এসব সময়ের সহবাসে সন্তান হলে অধিকাংশ সন্তান বে-আকল ও নির্বোধ হয়ে থাকে।

কক্ষে সন্তান বা আরেক সতীন নিদ্রায় থাকাবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসে সন্তান হলে অধিকাংশ সন্তান ব্যভিচারের খাছলত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে অযুবিহীন হালতে সহবাস না করা। এতে আগত সন্তান কৃপণ ও কঞ্জুস স্বভাব নিয়ে জন্ম নেয়।

সহবাসের পর পরই ঠাণ্ডা পানি বা ঠাণ্ডা কোনাে জিনিস ব্যবহার না করা। কেননা সে সময় সম্পূর্ণ শরীর গরম থাকে, ঠাণ্ডা কিছু পেলে সে খুব দ্রত গ্রহণ করে। ফলে মুখ ঝলসানাে, কাপুনি, দুর্বলতা ও ফুলা রােগ হয়ে থাকে।

সহবাসের পর উভয়ের গুপ্তস্থান ভিন্ন ভিন্ন নেকড়া দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। এক কাপড় দ্বারা পরিস্কার না করা। এতে পরস্পরের মাঝে অমিল ও দুশমনী সৃষ্টি হতে পারে।

অপবিত্র অবস্থায় কোনাে কিছু খাওয়া ও পান করা উচিত নয়। কেননা এর দ্বারা অভাব-অনটন দেখা দিতে পারে। উত্তম হল সহবাসের পর গােসল করে খাওয়া-দাওয়া করা। গােসল সম্ভব না হলে কমপক্ষে অবশ্যই অযু করা উচিত।

ভরপেটের সহবাসে সুগারের রােগ দেখা দিতে পারে। এজন্য রাতের শেষ প্রহরে সহবাস উত্তম। আদাবুস সালেহীন কিতাবে রাতের প্রথম দিকে সহবাস করতে নিষেধ করা হয়েছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে যে কোনাে দিন সহবাস করতে পারবে। এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে যৌনবিদ ও বুযুর্গগণ যেসব দিনে সহবাস করতে নিষেধ করেছেন সেসব দিনে সহবাস না করাই উত্তম।

জুমার রাতে সহবাস করা সর্বোত্তম। নবীগণ, আওলিয়াগণ, উলামায়ে কেরাম, হেকিমগণ এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞ ডাক্তাররা জুমআর রাতে সহবাস করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। জুমআর রাতে সহবাস করার দ্বারা যে সন্তান জন্ম নেয়, অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, তারা সাধারণত সৎ, নেককার, আবেদ, পরহেযগার হয়ে থাকে।

ঋতুস্রাব ও নেফাস চলাকালিন স্ত্রী সহবাস করা মারাত্মক গােনাহ। ঘটনাক্রমে যদি সহবাস হয়ে যায়, তাহলে খাছ দিলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সম্ভব হলে কিছু দান সদকা করা উচিত।

যার স্ত্রী অধিক সুন্দরী ও রূপসী, তার সহবাস করার মজাটাই ভিন্ন। এর দ্বারা যদিও বীর্য তুলনামুলক বেশি নির্গত হয়, তবুও তার প্রতি আসক্তির কারণে আত্মার মাঝে এক ধরণের শান্তি অনুভব হয়। আত্মার এ প্রশান্তির দ্বারা বীর্যও বেশি বেশি সৃষ্টি হয়ে থাকে।

যার স্ত্রী নাবালেগ বা সবেমাত্র যৌবনে পদার্পন করেছে, এমন স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা। তদ্রুপভাবে স্ত্রীর মন মেজাজ ভালাে না থাকলে বা যেসব স্ত্রীর মুখে দুর্গন্ধ রয়েছে, তাদের সাথেও সহবাস না করা উচিত। স্ত্রী যদি একেবারে হালকা পাতলা ও দুর্বল হয় এবং সহবাসের প্রতি তার কোনাে আগ্রহ না থাকে, তাহলে তার সাথে সহবাস করবে না।

You may also like...

error: Content is protected !!